সচিবালয়ের আগুনের ঘটনায় আঙ্গুল গনপুর্ত বিভাগ ও পুলিশের দিকে
গত ২৫ ডিসেম্বর বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ৬তলা থেকে দাও দাও করে জ্বলতে থাকে আগুন, পুরতে পুরতে ৯তলা পর্যন্ত ছাই হয়ে যায় অধিকাংশ আসবাবপত্র, নথিপত্র। ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতি ঘটে রাত ১টা ৫২মিনিটে প্রায় ৭ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্ত্রণালয় , তারমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি দপ্তর।
এখন প্রশ্ন আগুন লাগলো কিভাবে ? অনুসন্ধানে সরকার। আঙুল আমলাদের দিকেই উঠেছে অধিকাংশ বক্তব্যে ।
সচিবালয়ের আগুনের ঘটনা নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, তখন এক ফেইসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে যারা ‘ফ্যাসিজম’ কার্যকর করেছে, তাদের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘উদারতার’ পরিণামে জাতিকে ভুগতে হবে ।“আজকে আমলা আগামীকাল অন্য কেউ।”
জাতীয় নাগরিক কমিটির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, "যাদের রক্তে দালালি, যাদের রক্তে দাসত্ব, যারা এত বছরের অপকর্মের সাথে জড়িত, তাদেরকে আপনি যতই সুযোগ দেন কোনো লাভ নেই। যেকোনো জায়গায়, সেটা সচিবালয় হোক, আমলাতন্ত্র হোক, বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি অফিসে হোক। কেউ যদি বিন্দুমাত্র অন্যায়–অনিয়ম, অপকর্ম, দুর্নীতি, ঘুষ এগুলোর সাথে জড়িত থাকে, তাদের চেয়ার থেকে টেনে তুলতে হবে। এই সুযোগ আর দেওয়া যাবে না। ওই তিন, চার, পাঁচই আগস্টে খুনি শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দিয়েছিল, তারা এখনো কীভাবে সচিবালয়ে বসে অফিস করে? অথচ এই অভ্যুত্থান যদি সফল না হতো। তাহলে ওই খুনি শেষ হাসিনার দোসররাই আমরা যারা আন্দোলন করেছি, আমাদের সকলকে জেলে ভরার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করত।"
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বিগত সময়ে হওয়া অর্থ লোপাট, দুর্নীতি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম। কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাটের প্রমাণও পাওয়া গিয়েছিল। প্রাক্তন একজন আমলাকে উদ্দেশ্য করে উপদেষ্টা আরও বলেন,"সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল পিরোজপুরের একটি প্রকল্পে অর্থ লোপাটের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছিল। সেই নথিগুলো পুড়ে গেছে। তবে পিরোজপুর থেকে আবারও সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।"
এতে আর বুঝতে বাকি নেই যে, সন্দেহের চোখ আমলাদের দিকেই তাকিয়ে ।
সচিবালয়ে আগুনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে গণপূর্ত বিভাগ ও পুলিশ-কে দায়ি করছেন প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিব প্রতিবাদ জানিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন নিজের ফেসবুক পোস্টে,"সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় আমলা (Bureaucrat), বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে প্রশাসন ক্যাডারের উপর দোষ চাপিয়ে অনেকেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কারণ আমলাদের উপর দোষ দিয়ে সব কিছুতেই পার পাওয়া যায়!
সচিবালয়ে যারা প্রবেশ করেছেন তারা জানেন লুকিয়ে রাতের বেলাতো দূরে থাক দিনের বেলাতেও ঢুকতে চেষ্টা করলে নির্ঘাত মারা পড়বেন।
একজন উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পুলিশ, আনসার আর বর্তমান পরিস্থিতিতে, আর্মি-বিজিবি ঘিরে রাখে চারপাশ। চারদিকে তো বটেই ভেতরেও বিভিন্ন পয়েন্টে আছে হাই-রেজুলেশনের নাইট ভিশন ক্যামেরা। একটু পরপর দেখা যাবে ছোট ছোট উঁচু নিরাপত্তা চৌকি। কোনভাবেই এসব এড়িয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ নাই।
সচিবালয় দেশের প্রশাসন যন্ত্রের হৃদপিণ্ড। এখানে আগুন দেয়া সহজ কোন বিষয় নয়। অফিস শেষে সকল বিল্ডিংয়ের রুমে এবং মূল প্রবেশদ্বারের কলাপসিবল গেটের তালা দিয়ে থাকেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা।
প্রশাসন ক্যাডারের উপর দায় চাপানোর আগে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রমাণ দিতে হবে। আর না দিতে পারলে বুঝতে হবে ‘ডাল মে বহুত কুচ কালা হ্যায়!’
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের এক সিনিয়র সহকারী সচিব ফেসবুকে লেখেন,"
সচিবালয়ের সমস্ত বিল্ডিং, ইন্টেরিয়র, কলাপসিবল গেট, স্থাবর সমস্ত কিছুর দায়িত্ব PWD- ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের।
এর নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের।
আমি ও আমরা যে রুমগুলোতে বসি তার চাবিও আমার বা আমাদের স্টাফের কাছে থাকে না। গণপূর্ত যদি রুম খুলে না দেয় তো আমার অফিস করাও সম্ভব না!
কখনো জরুরি প্রয়োজনে রাতে কোন রুম খুলতে হলে PWD বিভাগের স্টাফ যাদের কাছে চাবি থাকে, তাদেরকে বললে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রেজিস্টার খাতায় নাম, পরিচয় লিখে- সাক্ষর দিয়ে রুমে ঢুকতে হয়। চাবি কিন্তু তাদের কাছেই থাকে, রুম খোলা- বন্ধ তারাই করেন।
রাত গভীরে আগুন লাগাটা কোন গেমের অংশ হতেই পারে, সাবোটাজও হতে পারে।
প্রত্যাশা - তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।"
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব ফেসবুকে লেখেন,"সচিবালয়ে কাজ করি ১ বছরের বেশী সময় হলো। আমার জানা ও দেখা মতে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনগুলোতে অফিস চালু হওয়ার আগে গেইট খোলা এবং অফিস শেষে বন্ধ করা, অফিস কক্ষ খোলা- বন্ধ করা, যাবতীয় ইন্টেরিওর ও ইলেকট্রিক ফিটিংস নির্মান-মেরামত-সংস্কার, দেখা-শোনার দায়িত্ব গনপূর্ত বিভাগের। আমরা অনেকেই যে দপ্তরকে পিডব্লিউডি (PWD) হিসেবে জানি।
বিশেষ করে সচিবালয়ে অফিস শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন চলে যায় তখন প্রতিটি কক্ষ এবং গেইটের চাবি থাকে গণপূর্ত বিভাগের লোকজনের কাছে।
মধ্যরাতে যখন আগুন লেগেছে, তখন আমলাদের কেউ নিশ্চয়ই অফিসে ছিলো না বা নতুন করে ভিতরে ঢুকে আগুন দেয়নি।
আর যদি কেউ ঐ মধ্যরাতে সচিবালয়ে আগুন দেয়, সেটা দেখবে দায়িত্বরত পুলিশ, যারা সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন।
এখানে আমলা কোত্থেকে আগুন লাগাতে আসলো বাপু, আমার শুধু মাথা চুলকায়!!
এখন শুধু অপেক্ষা , তদন্ত প্রতিবেদনে কি আসে !
Rp / Rp
সকাল ৮টায় ডিএনসিসির কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর
আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
বাংলাদেশে, সংবিধান আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করে
“শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার” ক্যাম্পেইন শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
চীনা রাষ্ট্রদূতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ
মহাপরিচালকের দরবার গ্রহণ ফায়ার সার্ভিসকে প্রকৃত সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান -- মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এখন আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার, জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে -- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া
প্রশিক্ষণ ভাতা বিতরণে বিকাযুব উন্নয়ন অধিদপ্তরেরশ ও রকেটের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কমিটমেন্টের আই -- আখতার হোসেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত