ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড মাস্টার প্ল্যানে টুরিজমের আগে সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে - উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান


আলী আহসান রবি photo আলী আহসান রবি
প্রকাশিত: ৬-১-২০২৬ বিকাল ৫:৪৭

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সেন্ট মার্টিনকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। তাই টুরিজমের আগে দেশের এই অনন্য প্রতিবেশকে বাঁচাতে সংরক্ষণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে একটা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাসহ মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করতে হবে। কীভাবে এখানে আবার একটা সমৃদ্ধ প্রতিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় সেটাই হলো এই মাস্টার প্ল্যানের উদ্দেশ্য।
আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর-এর সহযোগিতায় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর সহায়তায় “Strategic Consultation Workshop Held on Saint Martin’s Island Master Plan” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের একটা অংশে দ্বীপের সংরক্ষণে ও জীবিবৈচিত্র ফিরিয়ে আনতে করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলে এটা সহজে অনুসরণীয় হবে। সংরক্ষণের স্বার্থে এখানে টুরিজমকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর উপর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আগত বহিরাগতদের ক্ষতিকর আধিপত্য রোধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্ল্যান বাস্তবায়নে আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখতে হবে। এখানে বসবাসকারীদের জন্য বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। মাছ ধরা, শুটকির ব্যবসা, হস্তশিল্প এমনকি টুরিজমও বিকল্প পেশা হতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়কালে মন্ত্রণালয় সেন্ট মার্টিন সংরক্ষণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসময়ে মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এই প্ল্যান প্রস্তুতে যারা সহযোগিতা করেছেন সচিব তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানান।
কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ একশজনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
অসাধারণ পরিবেশগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, প্রবাল ও ঝিনুক আহরণ, টেকসই নয় এমন মৎস্য আহরণ পদ্ধতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে গুরুতর পরিবেশগত অবক্ষয়ের মুখে রয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও এর আশপাশের সামুদ্রিক এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area—ECA) হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যানে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক যৌথ ব্যবস্থাপনাকে একত্র করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংরক্ষণ উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই মাস্টার প্ল্যান বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ রক্ষা এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই সুফল নিশ্চিত করতে চায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (অন্তর্বর্তীকালীন) সোনালি দয়ারত্নে।
কর্মশালায় Overview of the Draft Saint Martin's Island Master Plan, Collected Feedback on the Draft Saint Martin Island Master Plan, Biodiversity of Saint Martin Island ইত্যাদি বিষয়ে তিনটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয় এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উপর দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ইকোলজি ফরেস্ট্রি এন্ড বায়োডাইভার্সিটির বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ রেজাউল করিম এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ডক্টর মোঃ ছগীর আহমেদ
সেন্ট মার্টিনস আইল্যান্ড মাস্টার প্ল্যানটি ২০২৬ সালের প্রথম দিকে চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Rp / Rp

অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি -- প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বদলী প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার -- প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ 

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

জাতীয় যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়নে ঢাকা বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব - সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

গুণীজনদের জীবদ্দশায় সম্মান জানালে সমাজসেবায় উৎসাহ বাড়বে --- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী 

'শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার' চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর চুক্তি স্বাক্ষর

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে --- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী