ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা, ”টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি” শীর্ষক আলোচনা সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮-৬-২০২৬ দুপুর ৪:৩৫

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনাসমূহ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) আয়োজিত “জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা: টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সিরডাপ (CIRDAP)-এর ড. সিসেফ এফেন্দি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ধরা’র সদস্য ফয়সাল আহমেদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড্রিম রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (DRDF) এর সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু জলবায়ু বা পরিবেশগত প্রয়োজন নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে ২০৩০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য যে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, বিনিয়োগ সহায়তা বৃদ্ধি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।

সভাপতির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি খাত ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেলকে আরও উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পরিবেশগত সুবিধাগুলোর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে বাধা দূরীকরণ এবং যুবসমাজ ও নাগরিকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাব এ খাতের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং রুফটপ সোলার স্থাপনের ব্যয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াবে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে রুফটপ সোলারের সম্প্রসারণ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশেও সঠিক নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ সুবিধা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তবে এ জন্য রেসকো (RESCO) মডেলের অর্থায়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ, মানসম্মত স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি।

ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, বুয়েটের অধ্যাপক (অব.) ড. ইজাজ হোসেন, স্রেডা’র পরিচালক (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (জ্বালানি ও পরিবেশ) তানজিনা দিলশাদ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, গ্রিড আধুনিকীকরণ, শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, গৃহস্থালি ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রণোদনার সুযোগ আরও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভাটি আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, ব্রাইটার্স, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (CPRD), ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (DRDF), ইকুইটিবিডি, ইআরডিএ (ERDA), গ্লোবাল ল’ থিংকার সোসাইটি (GLTS), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, অর্গানাইজেশন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন (OCREC), রিভার বাংলা, সচেতন ফাউন্ডেশন, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (YOUCAN), ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (YEDO), তরঙ্গ ফাউন্ডেশন এবং অদম্য ’১৯ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন।

বক্তারা বলেন, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ঘোষিত কর ও শুল্ক প্রণোদনা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে কার্যকর বাস্তবায়ন, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা রুফটপ সোলার, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে একটি ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

Rp / Rp

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণিতচর্চার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়তে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা, ”টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি” শীর্ষক আলোচনা সভা

সংস্কৃতি মন্ত্রী'র সাথে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ: ফুটবল ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আরও দৃঢ় হচ্ছে বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা মৈত্রী

গবেষণার ফলাফল এমন হওয়া উচিত যা মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয় - বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন 

বাজারে চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল রয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে: মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ডিএমপি কমিশনার

আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে -- শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সাথে ইউরোপিয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযানের নির্দেশ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করলো ডিএসসিসি

সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ড এর রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ