দূর্ণীতির বরপুত্র ডিপিএইচই এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস। তিনি একাই দুইটি ডিভিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে মাত্র কয়েকজন দাপটে চলে ঘুষ এবং দূর্ণীতির বানিজ্যে। তার মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস একজন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে হাতে এসেছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ও বেশি দুর্নীতির তথ্য।
তথ্য বলছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অন্তরালে রয়েছে একটি টিম, যেখানে সিক্রেট রেসিপি হিসেবে যারা দূর্ণীতির বড় উৎসবে লিপ্ত থাকে। তাদের মধ্যে একজন পলাশ চন্দ্র দাস। নির্দিষ্ট ঠিকাদার দিয়ে কাজ করান নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস। আমাদের অনুসন্ধানে পলাশ চন্দ্র দাস খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই দুই অফিসে ৫/৬ টি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে সব চেয়ে বেশি।
অত্যন্ত সুক্ষ্ণভাবে দূর্নীতির বটবৃক্ষ পলাশ চন্দ্র দাসকে দেখে বুঝার উপায় নেই কতো সম্পদের মালিক বনেছেন। ব্যাংক হিসাব দেখে বুঝার উপায় নেই দুপুরের ভাত খাওয়ার পয়সা আছে কিনা? মাস্টারমাইন্ড পলাশ চন্দ্র দাস যোগ বিয়োগ অংকে অনেক পাকাপোক্ত। তবে চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি আমাদের অনুসন্ধানের। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে গড়ে তুলেছে নিজের রাজত্ব।
সরকারের নিয়মের বাইরে তৈরী করেছে নিজের নিয়ম। টেন্ডার রেট থেকে শুরু করে কার হাতে যাবে এই কাজ সবি প্লানিং করেন পলাশ চন্দ্র দাস। এমন ভাবে গুছিয়ে তুলেন বুঝার উপায় নেই এটি কি টেন্ডার নাকি টাকার ভান্ডার! সব কিছুই করেন তৃতীয় হাতে। বাম হাতটি তৃতীয় হাতে রেখে নিজেকে আড়াল করে অর্থ চলে যায় দেশের বিভিন্ন একাউন্টে ।
সূত্র বলছে নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস তার অর্জিত অবৈধ পন্থায় আয় করা অর্থ তার নিকট আত্নীয় ও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট ও বিশ্বস্ত লোকের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি ক্রয় সহ নানা ভাবে দেশ ও দেশের বাইরে পাচার করেছে র্দীঘদিন ধরে।
গত দুই বছরে পলাশ চন্দ্র দাস চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি অফিস থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারের কোটি কোটি টাকা । তার এই কাজে সহযোগী হলেন, ক্যাশিয়ার, রতন কুমার দেবনাথ ও শুভ নন্দী, প্রাক্কলনিক, মারজাহান বেগম, সহকারী ক্যাশিয়ার, আফরোজা সুলতানা নুপুর, অফিস সহকারী, রায়হানুল ইসলাম, এসটিমিটার, মাসুদুর রহমান । এছাড়াও এই সিন্ডিকেটে রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট। এই ঠিকাদার সিন্ডিকেটের অন্যতম এস অনন্ত বিকাশ থিপুরা। গত ২ বছরে তার নামে অর্ধশতাধিক এর ও বেশি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সব প্রকল্পের কাজ করেছে অন্য কেউ। তাদের মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় কর্তাবাবু সহ বিভিন্ন লোক।
তথ্য বলছে এস অনন্ত বিকাশ থিপুরার(অ-বাঙ্গালী) লাইসেন্স ব্যবহার করে অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হাতিয়ে নিয়েছে পলাশ চন্দ্র দাশ । আর সেই সব প্রকল্প বাঙালীদের কাছে বিক্রি করে সরকারকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে সেই টাকা আত্নসাৎ করেছে তিনি।
সূত্র বলছে পলাশ চন্দ্র দাস প্রতিটি প্রকল্প থেকে ঠিকাদারদের কাছ থেকে, বিল+ভ্যাট,(উৎসে কর),আইটি (ইনকাম ট্যাক্স) বাবদ ৬% নিয়ে থাকে। যা আগে ছিলো ৪% টাকা এই সব টাকা আদায় করে থাকেন ক্যাশিয়ার ও সহকারী ক্যাশিয়াররা। আবার কাজ শেষে বিলের উপর (পিসি) ৩% আদায় করা হয়। ২% নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাশ নিয়ে থাকে। আর ১ % ক্যাশিয়ার, বিভাগীয় ক্যাশিয়ার, সহকারী ক্যাশিয়াররা পেয়ে থাকে (অতিরিক্ত আয় বাবদ)।
এই ছাড়া ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে আরো আদায় করা হয় ১০% থেকে ১৫% টাকা। সব মিলিয়ে ২০% থেকে ২৫% টাকা আদায় করে থাকে পলাশ চন্দ্র দাসের সিন্ডিকেট। এই টাকার একটি অংশ ঢাকা অফিসে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দিয়ে থাকেন পলাশ চন্দ্র দাস।
সম্প্রতি খাগড়াছড়ি বিভাগীয় কার্যালয়ে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকলপের (ইজিপি) সিস্টেমর ১৬ টি কাজের মধ্যে ১১টি প্রকল্প অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার নামে দেওয়া হয়েছে এমন সংবাদের সত্যতা খুজঁতে খাগড়াছড়ি অফিসে গেলে বের হয়ে আসে পলাশ চন্দ্র দাসের কোটি কোটি টাকার দূর্নীতির তথ্য । অনুসন্ধানে জানা যায়,৫ই আগষ্ট সরকার পতনের পর পর পলাশ চন্দ্র দাস নিজেই আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে নাম লেখাতে ও নিজের চেয়ার আগলে রাখতে ১৬ টি প্রকল্পের মধ্যে ১১ টি এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার নামে লোয়েষ্ট করিয়ে করে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে দিয়েছেন । বাকী ৫ টি প্রকল্প তার আস্থাভাজনের নামে লোয়েষ্ট করে অন্যজনকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের একজন ঠিকাদার বলেন, আমার জীবনে এরকম ধান্ধাবাজ, দুর্নীতিবাজ অফিসার আর একজন দেখিনি। টেন্ডার হওয়ার আগে ঠিকাদারকের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন তিনি। এই সময় তিনি আরো বলেন,বিগত স্বৈরা শাসক আওয়ামীলীগের কিছু কিছু নেতাদের আপনজন ছিলো পলাশ চন্দ্র দাস। ৫ ই আগষ্ট স্বৈরা শাসকের পতন হলেও , দুর্নীতিবাজ পলাশ চন্দ্র দাস এখনো স্বপদে বহাল থাকায় এটা ছাত্র জনতার আন্দোলনে শহীদদের সাথে বৈঈমানী এবং প্রতারণা। পলাশ চন্দ্র দাসকে দ্রুত অপসারণ এবং শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এবিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য মিলেনি।
পলাশ চন্দ্র দাসের এই সব দূর্নীতির বিষয়ে অনেক ভুক্তভোগী একাধিকবার দুদকে ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেইনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা । তথ্য বলছে যাদের কাছে অভিযোগ গুলো করা হচ্ছে তারাও পলাশ চন্দ্র দাসের অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রতিবেদকের কাছে বেশ কিছু প্রমাণ রয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ নভেম্বর দুদক ঢাকা কার্যালয়ে আরেকটি অভিযোগপত্র জমা পড়েছে পলাশ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। উত্তর খুঁজতে দুদকের জবাব কি আসে সে অপেক্ষায় অনুসন্ধানী টিম।
২য় পর্বে যা দেখবেন :-
* ২ বছরের সকল অনিয়মের তথ্য ।
* কিভাবে করেছে প্রতিটি টেন্ডার? যুক্ত ছিলো কারা ?
* গত ২ বছরে কাদের মাধ্যমে টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে,কিভাবে করছে।
* ঘুপচি টেন্ডার কিভাবে পরিচালনা করছে ।
* কমিশন দিয়ে কাজ পেতে হয় এমন ২০ জনের বেশি ঠিকাদার এর বক্তব্য ।
* টেন্ডার রেট কোড থেকে শুরু করে কার হাতে কাজ যাবে এটা কিভাবে নির্ধারণ করতো পলাশ চন্দ্র দাস সকল তথ্য আগামী পর্বে প্রচার করা হবে ।
* বরাদ্ধকৃত বিভিন্ন কাজের টাকা কিভাবে কাজ না করে কিভাবে আত্মসাৎ করতো।
* কমিশনের টাকা কে কে ভাগ পায়।
* নোয়াখালী ও খাগড়াছড়ি সহ দেশের কোন কোন জায়গায় সম্পত্তি ক্রয় করেছে এবং কাদের নামে ক্রয় করেছে।
* ক্যাশিয়ার সহ তার সিন্ডিকেটের সকলের নামে- বেনামে সম্পত্তির তালিকা।
*সম্প্রতি বন্যার টাকা নয়ছয়।
Admin / Admin
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের উপর গুলিবর্ষণ ও সহিংস ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বিএজেপি'র
বাগেরহাটে জামাত নেতার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
চাঁদপুরের "কচুয়ার সন্তান " ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া রুবেল
সাটুরিয়ায় সাধারণ ভোটারদের উদ্যোগে ধানের শীষের বিশাল মিছিল ও শোডাউন অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা, অফিসে তালা ও ভাংচুর
আগে হবে প্রজ্ঞাপন তারপরে নির্বাচন ,পে- স্কেল নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না
ভোট কেন্দ্র দখল করতে আসায় যৌথ বাহিনীর প্রতীকি মহড়া
আমতলীতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নৌবাহিনীর হাতে ২০পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার
ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জামাত ইসলামের বিকল্প নেই - শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ
দেশের মানুষ রাজনীতির দুই ভূত তাড়াতে চায় : মামুনুল হক
বাগেরহাটে সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হুমকির মুখে