জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দেড় লাখ মানুষের ভরসা মাত্র ৩ চিকিৎসক ! ২৬ চিকিৎসক পদের ২১ টি ফাঁকা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ রয়েছে। এই মোট জনসংখ্যার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪’শতাধিক রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন ৩ জন চিকিৎসক। এতে রোগীদের ভোগান্তি পাশাপাশি চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবা। এই মাসেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক চেয়ে দুই বার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। চাহিদা দেওয়ার পরেও পদায়ন হয়নি নতুন কোন চিকিৎসকের।
আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বহিঃ বিভাগে ৩৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সকাল আট’টা থেকে দুপুর দেড়’টা পর্যন্ত জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন রোগী ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন ১০ জন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২ জন রোগী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক পদে ২৬ টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এই পদের বিপরীতে ৫ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন, ফাঁকা রয়েছে ২১ টি পদ। এই পাঁচ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১ জন বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে রয়েছে এবং ১ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ১১ জন থাকার কথা থাকলেও সেই পদে একজনও চিকিৎসক নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন। চিকিৎসক সংকট থাকায় সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসাররাও রোগীদের চাপে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করে রোগীদের নিতে হচ্ছে সেবা। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি জরুরী বিভাগেও রোগী দেখছেন।
কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে প্রচন্ড ভিরের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে। এতে রোগীরা আরও অসুস্থ্য বোধ করছেন। কোন পরীক্ষা করতে দিলে রিপোর্ট নিয়ে আসতে দেরি হওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এতে কিছুটা বাধ্য হয়েই বাইরের ক্লিনিক গুলোতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলে রোগীদের কষ্ট কমে যেত। শিশুর চিকিৎসা নিতে আসা মঞ্জিলা নামের একজন মা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাচ্চা কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল থেকে একজন ডাক্তার রোগী দেখছেন। ডাক্তার কম থাকায় আমাদের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ আদনান বলেন, চিকিৎসক সংকট থাকায় ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি জরুরী বিভাগ ও বহির্বিভাগে আমাদের রোগী দেখতে হচ্ছে। বর্তমানে আমরা দুই জন চিকিৎসক দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও পর্যাপ্ত ডিউটির মাধ্যমে রোগীদের সেবা দিচ্ছি। শীত বাড়ার সাথে সাথে শীত জনিত রোগীও বাড়ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমাদের তীব্র চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। সেবা দিতে আমরা ব্যপকভাবে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফি মাহমুদ বলেন, বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এই উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার রোগীদেরও সেবা দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের রোগীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে। সংকট নিরসনে আমরা গত দুই মাসে তিনবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা প্রেরণ করলেও এখনো কোন চিকিৎসক পদায়ন হয়নি।
সিভিল সার্জন ডা. মুহা. রুহুল আমিন বলেন, চিকিৎসক সংকট নিরসনে আমরা প্রতিনিয়ত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়া এবং তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সে যোগদানের কারণে এই সমস্যা তৈরী হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই চিকিৎসক সংকট নিরসন হবে।
Rp / Rp
একশত বিশ কেজি জেলীযুক্ত চিংড়ি জব্দ করল হাসনাবাদ নৌ পুলিশ ফাঁড়ি
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াতকে ওএসডি করায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সকল মহানগরসহ দেশের গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠের সুব্যবস্থাকরণ লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত
লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : দ্রুত বিচারের আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর
শিবচরে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যতিক্রমী আয়োজন
বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে - মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী
ফুলবাড়ীতে মাদক বিরোধী র্যালী অনুষ্ঠিত
বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক অভিযান, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছাড়া স্বৈরাচারমুক্ত সমাজ কল্পনা করা যায় না
বাগেরহাটে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন: জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বরগুনা-১ আসনের এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে কাঁচা রাস্তার মাটির কাজ চলমান