কালাইয়ে জ্বিনের মাধ্যমেই চলছে অপারেশন সহ হাত-পা ভাঙ্গার চিকিৎসা!
বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগেও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে এখনো জ্বিনের মাধ্যমে চলছে অন্ততঃ কয়েক শতাব্দী আগের কোন এক যুগের নানা রকমের ভৌতিক চিকিৎসা। এখানে বানেছা পরী নামক ৭শত বছর বয়সী কথিত জ্বিনের দ্বারা চলছে পেটের জটিল টিউমার অপারেশন থেকে শুরু করে নানা রকমের জটিল রোগের চিকিৎসা। আর এসব চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রোগীকে ঝাড়-ফুক, তেল পড়া, পানি পড়া, মিষ্টি পড়া, গুঁড় পড়া সহ অদৃশ্য ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে। বানেছা পরী নামক জ্বিন দিয়ে করা হচ্ছে রোগীর অপারেশন পর্যন্ত। কালাই উপজেলার পুনট নয়াপাড়া গ্রামে বেশ কিছুদিন থেকেই চলছে ভৌতিক প্রতারণার এই রমরমা ব্যবসা।
সরেজমিন নয়াপাড়া গ্রামে কথিত জ্বিনের চিকিৎসালয়ে গিয়ে দেখা গেল, বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বিনের দ্বারা চিকিৎসা নিতে আসা নির্ধারিত বৈঠক খানায় অপেক্ষমান বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের সাথে আসা স্বজনদের। আগতদের কারও হাতে পানির বোতল, কারও হাতে তেলের, কারও হাতে মিষ্টি আবার কারও হাতে গুঁড়ের বাটি দেখা গেল। কথা হলো জ্বিন হাসিলকারী মহিলা প্রায় ৫৫ বছর বয়সী জাহেরা বেগমের সাথে। তিনিই নিজেকে পরিচয় দিলেন বানেছা পরী নামে। জানালেন প্রতি শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সপ্তাহে চারদিন রোগী দেখেন তিনি। স্বামীর বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন তার এই তথাকথিত চিকিৎসালয়। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার পিতা বৃদ্ধ আবুল হোসেন এবং বোনের স্বামী জাহিদুল ইসলাম।
জানা গেল, রোগী দেখার নির্ধারিত দিনগুলোতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত হতে প্রায় অর্ধশত রোগী প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশা ও ভ্যানে করে এই নয়াপাড়া গ্রামে আসেন জ্বিনের চিকিৎসা নিতে। প্রথমে জ্বিনের সিরিয়ালের জন্য প্রতি রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩০ টাকা। বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার নামে আঙ্গুলের ইশারায় মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে অদৃশ্য ইনজেকশন। এছাড়া দেয়া হচ্ছে তেল পড়া, পানি পড়া, মিষ্টি পড়া সহ ঝাড়-ফুক। এছাড়া মন্ত্র দিয়ে ছাড়ানো হচ্ছে জ্বিন। রোগের ধরণ অনুযায়ী জ্বিন দিয়ে অপারেশন করার নামে ফি বাবদ মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয় বলে জানা যায়। প্রতারণার এই ভৌতিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিমাসে আগতদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও এ ব্যাপারে কারো কোন ভুমিকা নেই। জ্বিনের এই তথাকথিত চিকিৎসালয়ে জাহেরা বেগম ওরফে বানেছা পরীর কাছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলেক হোসেন নামের হাতভাঙ্গা এক রোগী জানালেন, লোকমুখে এই চিকিৎসার কথা শুনে তিনিও এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার থেকে আসা মঞ্জিলা নামের এক টিউমার রোগী বললেন , লোকমুখে শুনে এখানে এসেছি, দেখি কি হয়? নওগাঁ সদরের উকিলপাড়া মহল্লা থেকে আগত পা ভাঙ্গা রোগী আব্দুল হান্নান জানান, এখানে খুব সহজে এবং দ্রুত সময়ে ভাঙ্গা-পা ভালো হবার কথা লোকমুখে শুনে এসেছি চিকিৎসা নিতে।
নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রসুল বললেন, আমরা চাই আমাদের গ্রামের এই প্রতারণার ব্যবসা বন্ধ হোক। স্থানীয় আব্দুল খালেক, রাইসুল ইসলাম, মতি মিয়া, মাহতাব আলী প্রামাণিক সহ বেশ কয়েকজন বলেন, উনি বুঝ যেটা দিচ্ছে, এটা প্রতারণামুলক কাজ, এটা জায়েজ নয় এবং এটা ঠিকও নয়। এই প্রতারণা ব্যবসা বন্ধের জন্য আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। গ্রামবাসীর অভিযোগ, কোনো সাংবাদিক এ ব্যাপারে রিপোর্ট করতে এলে জাহেরা’র পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে নানা রকম বাধা দেয়। ইতিপুর্বে আগত সাংবাদিকদেরকে তারা কখনও একান্ত ভাবে অনুরোধ, আবার কখনও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। জ্বিন হাসিলকারি জাহেরা’র প্রতারনার কবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য এই গ্রামবাসী ইতিমধ্যেই কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানান।
এক পর্যায়ে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক এ বিষয়ে জ্বিন হাসিলকারি কবিরাজ জাহেরা ওরফে বানেছা পরীর সাথে কথা বলতে চাইলে তার বোনের স্বামী জাহিদুল ইসলাম তাতে বাধা দেন। এক পর্যায়ে সে জানান, জাহেরা ওরফে বানেছা পরী এখন অসুস্থ্য। কাজেই তার সাথে কথা বলা যাবেনা। যা বলার তাদেরকেই বলতে হবে। তবে অপেক্ষার এক পর্যায়ে জাহেরা ওরফে বানেছা পরীর সাথেই দেখা ও কথা হলো। তার চিকিৎসা প্রদানের নির্ধারিত ঘরে ঢুকতেই বলে উঠলেন, আমি জ্বিন কথা বলছি। আমার নাম বানেছা পরী, বয়স ৭শত বছর। আমাকে সাইড দেন, আমি চলে যাবো। সামনের জানালা থেকে সরে যান। আমি জ্বিন,আমি মানুষের উপকারের জন্য পানি পড়া, তেল পড়া, ঝাড়-ফুঁক দেই।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মোঃ মাহফুজ আলম বলেন, জ্বিন দ্বারা ঝার-ফুকের মাধ্যমে যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সেটা স¤পূর্ণ ভিত্তিহীন ও প্রতারণামূলক এবং এটা কোন ভাবেই বিজ্ঞান সম্মত নয়। বাস্তবে এসব চিকিৎসার কোন অস্তিত্বই নেই। কেবলমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকরাই রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন।
জয়পুরহাট আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, এ রকম কোন চিকিৎসা নেই, জ্বিনদ্বারা চিকিৎসা মানে বিষয়টি সম্পুর্ন ভুয়া ও প্রতারনা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ রকম কোন বিষয়ের অস্তিত্বই নেই বলে জানান তিনি।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আক্তার জাহান বলেন, পুনটের নয়াপাড়া গ্রামের এ বিষয়টি আমরা শুনেছি। ওই গ্রামের একজন ব্যক্তি জ্বিন দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিচ্ছেন। সেখানে কেউ এসেছেন ভাঙ্গা হাতের চিকিৎসা নিতে, কেউ আবার টিউমার রোগ নিয়ে। লোকের কথায় বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন, এটা জানিয়ে অনেকে আমাকে অনুরোধ করেছেন এই প্রতারণা বন্ধ করার জন্য। যিনি এই ধরনের কাজ করছেন, তার ব্যাপারে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। কারণ এভাবে মানুষকে ভিন্ন একটি মিথ্যা জ্ঞানে নিয়ে আসা এক ধরনের প্রতারণা ।
Masum / Masum
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরগুনা ১ আসনের ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীর পথসভা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বরগুনা ১ আসনের হাতপাখা মার্কার পথসভা
বাগেরহাটে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীমসহ ৩জন আটক
বাগেরহাটে বিএনপি সভাপতির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনে বাধা ও সংঘর্ষ আহত-৫
শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে চাকরি মেলা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বাগেরহাটে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
মহাদেবপুরে বিনিয়োগের ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের দাবীতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবস্থান কর্মসূচী পালন
লালমনিরহাটে বিজিবির অভিযানে ইউএসএ তৈরী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
সন্ত্রাস, চাদাবাজ ও নৈরাজ্য মুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবেঃ ব্যারিস্টার জাকির
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাগেরহাট শাখার শোক
নদী ভাঙন রোধে পাটুরিয়ায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
রেড চিটাগাং ক্যাটল জাত সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি --- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা