ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

চা বিক্রেতা শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন আনসার বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট


মোঃ মোস্তফা সরদার,  শরীয়তপুর প্রতিনিধি photo মোঃ মোস্তফা সরদার, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯-১১-২০২৫ রাত ১১:৪৩

শরীয়তপুরে এক প্রত্যন্ত গ্রামের বেড়ে ওঠা বৃষ্টি খাতুন (১১) পড়াশোনা আর খেলাধুলা করার কথা থাকলেও সংসারের বোঝা কাধে নেওয়ায় একবেলা মাঠে খেলতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান এদিকে বাবা প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের ভরণ পোষণ এবং বৃদ্ধ দাদা-দাদির দায়িত্ব এখন তার ঘাড়ে। তিন বছর ধরে পরিবারের হাল টানছেন সে।

 

পালং মধ্য বাজারের পৌর সুপার মার্কেটের পাশে মোবাইল সার্ভিসের দোকানের সামনে চা বিক্রি করেন বৃষ্টি। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চা বিক্রি করেন সে। আর এই চা বিক্রির টাকা দিয়েই চালাচ্ছেন নিজের পড়াশোনা ও সংসারের যাবতীয় খরচ।

 

বৃষ্টি খাতুন শরীয়তপুরের ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। 

 

বৃষ্টি খাতুনের মানবেতর জীবন-সংগ্রামের কথা জানতে পেরে মাদ্রাসায় পড়ার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ জাহিদুল ইসলাম। কথা অনুযায়ী বৃষ্টি খাতুনের মাদ্রাসার বেতন ও পঞ্চম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার ফি, ব্যাগ, বোকরা, জুতা সহ অন্যান্য খরচ প্রদান করেছেন তিনি। 

 

শিশু বৃষ্টি খাতুন বলেন, আমার মা আমাকে ছোট রেখে নিজের সুখের চিন্তা করে অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। প্রতিবন্ধী বাবা ও দাদা-দাদি নিয়ে আমার অনেক চিন্তা হয়। মাদ্রাসায় আমি মনিং শিফটের শিক্ষার্থী হওয়ায় আমার ক্লাস সকালে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমার দাদি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। একটায় মাদ্রাসা ছুটি হলে আমি মাদ্রাসা থেকে সরাসরি দোকানে চলে আসি। এরপর দাদি বাসায় গিয়ে রান্না করে নিয়ে এলে খেতে পাই। কোনদিন বিকেলে, কোনদিন রাতে বাসায় যাই। 

 

তিনি আরও বলেন, আনসার বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ জাহিদুল ইসলাম স্যার আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। আমার মাদ্রাসার বেতন, পরীক্ষার ফি, ব্যাগ, বোকরা, জুতা, ক্রয় করে দিয়েছেন। এখন আমি ভালো ভাবে পড়াশোনা করতে পারব এটা আমার কাছে আনন্দের সংবাদ। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন শিক্ষক হয়ে অন্য এতিম ছেলে মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াতে পারি।

 

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ভিডিপি'র সদস্য'র মাধ্যমে জানতে পারি বৃষ্টির পরিবারের জীবন সংগ্রামের কথা। পরবর্তীতে বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পড়াশোনা খোঁজখবর নিয়েছি। আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদেয় দিক নির্দেশনায় গ্রাম পর্যায়ে আনসার বাহিনীর সেবা পৌঁছে দিতে মানবিক এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করেন। বৃষ্টির পড়াশোনার খরচ আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে। সমাজে এমন অনেক বৃষ্টি রয়েছে, সচেতন মানুষরা একটু উদ্যোগ নিলেই এরা সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারে।

Masum / Masum

বাগেরহাটে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের বার্ষিক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

মহাদেবপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

রাজশাহীতে সকলের জন্য স্কাউটিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাগেনহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাট হাসপাতাল থেকে গুরুতর আহত রোগীকে  'নরমাল' সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন

কৃষকের ভাগ্য বদলাতেই শহীদ জিয়া খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন— পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মহাদেবপুরে ৩ দিনব্যাপী বইমেলা পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত

১৬ বছর পর পুনরায় সম্প্রচার শুরু করতে যাচ্ছে চ্যানেল ওয়ান

২৮শে এপ্রিল আসলাম চৌধুরীর মামলার চূড়ান্ত শুনানি রায়ের দিকে তাকিয়ে চট্টগ্রাম ও দেশবাসী

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৯,৯৭০ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ

বাগেরহাটে প্রান্তিক নারীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

পা দিয়েই স্বপ্ন লেখা আরিফা—তার পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু