ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের আলু যাচ্ছে বিদেশে তবুও লোকসানে কুড়িগ্রামের আলুচাষী


জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি photo জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১-২-২০২৫ বিকাল ৬:৫২

চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রায় তুলনায় অধিক আলু চাষ করে বিপাকে পরেছে কুড়িগ্রামের আলুচাষীরা। বাজারে আলুর দরপতন হওয়ায় উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আলু। এ অবস্থায় মালয়েশিয়া ও নেপালে আলু রফতানীর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আলুচাষীরা লাভবান না হলেও কিছুটা লোকসান কমাতে পারছে। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে চাষীরা লোকসান কমাতে পারবে বলে জানান তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলুচাষ করেছে চাষীরা। চাহিদার তুলনায় অধিক আলুচাষ করায় বাজারে এখন দরপতন শুরু হয়েছে। খরচ উঠাতে না পেরে চোখে মুখে ফুটে উঠেছে চরম হতাশা। বর্তমানে পাইকাররা ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। দামের এমন অবস্থা হওয়ায় অনেকে আলু জমিতেই ফেলে রেখেছেন। তবে হঠাৎ করে আলু বিদেশে রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা আশার আলো দেখলেও মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় তাদের কোন উপকারেই আসছে না।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোব গ্রামের আলুচাষী সফিকুল জানান, প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৩০ শতক জমিতে আলু লাগিয়েছি। ৮ টাকা ১০ টাকা দাম হওয়ায় জমিতে আলু ফেলে রেখেছিলাম। আজ রপ্তানীর জন্য ১২ টাকা কেজি দরে পাইকারের কাছে আলু বিক্রি করলাম। এতে আমি ২৫ হাজার টাকার মতো পাবো। এই আলু চাষ করে আমার ১৫ হাজার টাকা লোকসান হয়ে গেল।
এদিকে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে আলুর সাইজ স্টান্ডার্ট না হওয়ায় সব জমি থেকে আলু নিচ্ছেন না সরবরাহকারীরা। তারা জানান, রপ্তানীর জন্য আলুর সাইজ ৮০ গ্রাম থেকে ৪০০গ্রাম হতে হবে। আন্ডার সাইজ বা খারাপ আকৃতির আলু গ্রহন করা হচ্ছে না। ফলে এদিক দিয়েও চাষীদের সমস্যায় পরতে হচ্ছে।
এবছর অনেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আলুচাষ করায় এখন চরম আতংকে রয়েছেন। চর সারডোবের বড় আলু চাষী কাদের মিয়া জানান, আমি ২ কোটি টাকা খরচ করে ৯৫ একর জমিতে আলুচাষ করেছি। বর্তমান বাজারমূল্য দেখে ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছি। সামনে আলুর দাম না বাড়লে আমরা মাঠে মারা যাবো। কাদের মিয়া আরো জানান, আলুচাষে এখন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এক একর জমি ভাড়া নিতে খরচ লাগে ৪০ হাজার টাকা। এতে ১ হাজার আলুবীজ কিনতে লাগে ৭০ হাজার টাকা। এছাড়াও সার, সেচ, কীটনাশক ও লেবার খরচ লাগে প্রায় ৯০ হাজার টাকার মতো। এতে মোট খরচ দাঁড়ায় ২ লক্ষ টাকা। আলু একরে পাওয়া যায় ২০০ বস্তা। প্রতিবস্তায় ৬০ কেজি হলে মোট আলু পাওয়া যায় ১২ হাজার কেজি। এতে দেখা যাচ্ছে প্রতি কেজিতে উৎপাদন খরচ দাড়াচ্ছে ১৬ দশমিক ৬৬ টাকা। সেই আলু ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হলে বড় চাষীরা বিরাট লোকসানে পরবেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আলু রপ্তানীাকারক সিরাজুল ইসলাম জানান, চলতি মাসের ২৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়া ও নেপালের উদ্দেশ্যে কুড়িগ্রাম থেকে ৩টি ট্রাকে ৪৫টন আলু চিটাগাং পোর্টে গেছে। আজও দুই ট্রাক আলু সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে আলুচাষীদের ক্ষতি কিছুটা কমবে। তিনি আরো জানান, আমরা বিভিন্নভাবে আলু রফতানীকারকদের সাথে যোগাযোগ করে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে আলু রপ্তানী করা শুরু করেছি। এতে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতি কমাতে পারছেন।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আলুচাষীদের জন্য বড় খবর হলো বিদেশে আলুর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সঠিক মূল্যে আলু বিক্রি করতে পারলে তারা লাভবান হতে পারবেন। 

Ahad Hossain / Ahad Hossain

বাগেরহাটে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের বার্ষিক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

মহাদেবপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

রাজশাহীতে সকলের জন্য স্কাউটিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাগেনহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাট হাসপাতাল থেকে গুরুতর আহত রোগীকে  'নরমাল' সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন

কৃষকের ভাগ্য বদলাতেই শহীদ জিয়া খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন— পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মহাদেবপুরে ৩ দিনব্যাপী বইমেলা পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত

১৬ বছর পর পুনরায় সম্প্রচার শুরু করতে যাচ্ছে চ্যানেল ওয়ান

২৮শে এপ্রিল আসলাম চৌধুরীর মামলার চূড়ান্ত শুনানি রায়ের দিকে তাকিয়ে চট্টগ্রাম ও দেশবাসী

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৯,৯৭০ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ

বাগেরহাটে প্রান্তিক নারীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

পা দিয়েই স্বপ্ন লেখা আরিফা—তার পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু