ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

ডাক্তারসহ জনবল সংকটে টাঙ্গাইল জেলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত


আরিফুর রহমান, টাংগাইল photo আরিফুর রহমান, টাংগাইল
প্রকাশিত: ৫-১০-২০২৫ রাত ১০:৪৯

১৯৭৪ সালে টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়া এলাকায় ৫০ শয্যার সুবিধা নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে যার শয্যা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০। এ ছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় তড়িঘড়ি করে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড চালু করা হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দক্ষ জনবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে জেলার জন্য অতি জরুরি এই সেবাটি। 

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাসপাতালের নেই দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টার। ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। আইসিইউ সেবা ও ট্রমা সেন্টার না থাকাতে রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হচ্ছে অধিকাংশ গুরুতর আহত রোগীর।

 

বর্তমানে চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানে সেবা নিতে আসা হাজার হাজার সাধারণ রোগীগণ। 

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এই হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসেন। 

 

 

 

 

এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। 

 

৪০ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দাদের জন্য জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ৪৪ জন চিকিৎসক নিতান্তই অপ্রতুল বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে অনুমোদিত জনবলের প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মচারীর পদ রয়েছে ৪০১টি। এর মধ্যে চিকিৎসকসহ ৭২টি পদ শূন্য। হাসপাতালে ৫৮ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৮টি পদ শূন্য। সিনিয়র কলসালটেন্ট (মেডিসিন) ও সিনিয়র কলসালটেন্ট (সার্জারি) দুইটি পদই শূন্য, সিনিয়ন কলসালটেন্ট (স্কিন ভিডি) পদও শূন্য, সিনিয়র নার্সের ৬টি পদই শূন্য, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ৭২টি পদের বিপরিতে শুন্য রয়েছে ৩৫টি পদ। 

 

এ প্রতিষ্ঠানে ৭৭জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে লোক নিয়োগ করেছে মাত্র ৪৮ জন, ১৬ জন সুইপার পদের বিপরিতে ৯টি পদ শূন্য। এত স্বল্প সংখ্যক আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নকর্মীর কারনে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দিকে ডায়াবেটিক রোগীর তিন মাসে সার্বিক অবস্থা জানার একমাত্র এইচবিএওয়ানসি মেশিনটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। 

 

এই হাসপাতালে সাধারণ মানের কিছু বেসিক টেস্ট করা হয়, কিন্তু সিটি স্ক্যান, এমআরআই, হরমোন টেস্ট, কালচার, হিস্টোপ্যাথলজি—এরকম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, কারণ সরঞ্জাম নেই। এ ছাড়াও মেডিসিন ও সার্জারি পোস্টে কোনো কনসালট্যান্ট নেই। স্ট্যান্ডার্ড সেটাপে ১৭৮ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, কিন্তু এখানে সর্বমোট চিকিৎসক রয়েছেন ৪৪ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হলেও পুরোপুরি চালু হয়নি, যার কারণে জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকে। 

 

এছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগী ও স্বজনরা হয়রানির শিকার হন। ৪৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৫ জন প্রতিদিন বহির্বিভাগে, ৪ জন ইমারজেন্সিতে এবং বাকি ২৫ জন ইনডোরে ডিউটি করেন।

 

হাসপাতালে ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে: ১নং প্রসূতি, ২নং শিশু, ৩নং গাইনি, ৪নং মেডিসিন (মহিলা), ৫নং মেডিসিন (পুরুষ), ৬নং সার্জারি (পুরুষ), ৭নং সার্জারি (মহিলা), ৮নং অর্থোপেডিক (পুরুষ), ৮ এ অর্থো (মহিলা), ৯নং ডায়রিয়া, ১০নং ইএনটি, ১১নং সিসিইউ, ১২নং আইসিইউ, ১৩নং করোনা সাসপেকটেড, ১৪নং করোনা পজিটিভ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ৪টি (গাইনী, সার্জারি, অর্থোপিডিক)। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১৩ জন, আউটসোর্সিং ভিত্তিতে।

 

এ দিকে এ হাসপাতালে ১০ বেডের আইসিইউ থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় ডাক্তার এবং দক্ষ জনবল না থাকার কারনে রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আইসিইউ সেবা বন্ধ রয়েছে। তারপরও আরও একটি ১০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুুত করা হয়েছে। সময় মতো সেটি চালু না করা গেলে মূল্যবান মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রয়োজন ৭৫ জন। হাসপাতালের খাবারের মান ভালো, তবে ২৫০ জন রোগীর বাইরে খাবার পরিবেশন সম্ভব নয়। ঔষধের বরাদ্দ রয়েছে, তবে অনেক রোগী ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগও করেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, কিছু সিনিয়র চিকিৎসকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে এখানে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জনবল নেই। এ কারনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষাও ঠিকমত হচ্ছেনা। জনবলের অভাব হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সচল যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ রোগী বাইরের বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করছেন। আর এ ক্ষেত্রেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ১জন রেডিওলজিস্ট দিয়ে কোনভাবে এত পরিমান রোগীর সেবা প্রদান করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।  

 

চিকিৎসা নিতে আসা জেলার গোপালপুরের রফিজ উদ্দিন বলেন, ডাক্তার আমাকে ব্রেনের এমআরআই পরীক্ষা করতে বলেছিলেন। সদর হাসপাতালে এমআরআই নেই, তাই প্রাইভেট হাসপাতালে ৭,৫০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করেছি। সরকারি হাসপাতালে এই ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের ভোগান্তি কম হতো।

 

আব্দুর রাজ্জাক নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের আশেপাশের ঔষধের দোকানদাররা রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ঔষধের স্লিপ নিয়ে বেশি দাম চায়। প্রতিবাদ করলে দাপট দেখানো হয়।

 

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও সহকারী স্টাফ না থাকায় রোগীরা পুরোপুরি সেবা পাচ্ছে না। তবে যারা আসেন তাদের উপযুক্ত সেবা দেওয়া হয়। ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ বেশি হলে বেগ পোহাতে হয়। 

 

আইসিইউ, ডাক্তার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বৃদ্ধি করলে আশানুরূপ সেবা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

Masum / Masum

বাগেরহাটে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের বার্ষিক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

মহাদেবপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

রাজশাহীতে সকলের জন্য স্কাউটিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাগেনহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাট হাসপাতাল থেকে গুরুতর আহত রোগীকে  'নরমাল' সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন

কৃষকের ভাগ্য বদলাতেই শহীদ জিয়া খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন— পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মহাদেবপুরে ৩ দিনব্যাপী বইমেলা পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত

১৬ বছর পর পুনরায় সম্প্রচার শুরু করতে যাচ্ছে চ্যানেল ওয়ান

২৮শে এপ্রিল আসলাম চৌধুরীর মামলার চূড়ান্ত শুনানি রায়ের দিকে তাকিয়ে চট্টগ্রাম ও দেশবাসী

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৯,৯৭০ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ

বাগেরহাটে প্রান্তিক নারীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

পা দিয়েই স্বপ্ন লেখা আরিফা—তার পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু