ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও ঝুলে আছে প্রশাসন ক্যাডারের পদোন্নতি


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭-১১-২০২৫ দুপুর ২:৩২

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও ঝুলে আছে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের যুগ্ম সচিবদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি। ২০তম ব্যাচসহ কয়েক ব্যাচের যোগ্য কর্মকর্তাদের নাম এসএসবির (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচিত হলেও মাসের পর মাস ধরে প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে প্রশাসনে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু করে এসএসবি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে কর্মকর্তাদের দীর্ঘ চাকরি-জীবনের রেকর্ড, শৃঙ্খলা ও অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার পর শতাধিক যুগ্ম সচিবের নাম প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।

এসএসবির তালিকায় মূলত এমন কর্মকর্তারাই স্থান পান যারা গত সরকারের সময় রাজনৈতিক তদবির বা সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানোর আগেই একটি বিশেষ মহলের হস্তক্ষেপে প্রক্রিয়াটি থমকে যায় বলে জানা গেছে।

একজন পদোন্নতি প্রত্যাশী যুগ্ম সচিব বলেন, “আমি সারাজীবন সততার সঙ্গে কাজ করেছি। কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এখন মনে হচ্ছে সেই সততাই যেন আমার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াল। ২০০১ সালে যোগদানকারী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচ ২০১৫ সালে উপসচিব এবং ২০২১ সালে যুগ্ম সচিব হন। অতীতে রাজনৈতিক কারণে অনেকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা পদোন্নতি পেলেও এবার অতিরিক্ত সচিব হওয়ার প্রক্রিয়ায় আবারও আটকে গেছেন।

২০তম ব্যাচের আরো একজন কর্মকর্তা বলেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে আমরা যুগ্ম সচিব আছি। এবারও পিছিয়ে পড়ছি। এতে হতাশা বাড়ছে।  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এসএসবির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ,মন্ত্রণালয়ভিত্তিক চাপ, রাজনৈতিক প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট বিতর্ক, স্বার্থসংঘাত জনিত সিদ্ধান্তহীনতা কেই দুষছেন।  

সাবেক আমলা ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করা। কিন্তু পদোন্নতির ফাইল দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় সেই লক্ষ্য প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাদের মতে, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ না হলে প্রশাসনিক গতি আরও কমে যাবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী অনুমোদিত অতিরিক্ত সচিবের পদ: ৪১৮টি কর্মরত রয়েছেন ৩৩০ জন ওএসডি ৩৮ জন ফলে কার্যত শূন্যপদ দাঁড়িয়েছে ১২৬টি।

শূন্যপদের কারণে অনেক মন্ত্রণালয়ে একজন অতিরিক্ত সচিবকে তিন থেকে চারটি বিভাগ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। এতে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কমে আসছে।পদোন্নতি আটকে যাওয়ার বড় কারণগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বিসিএস ২০তম ব্যাচের প্রকাশনা ‘অনুভবে বঙ্গবন্ধু’। বইটির ২৫ জন লেখক এবং ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তাকে ‘রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ’ হিসেবে বিবেচনা করে তালিকা থেকে বাদ দেয় এসএসবি। কিন্তু বাদ পড়াদের মধ্যে কয়েকজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকায় সেখানে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, যিনি এসএসবির সদস্যও, এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে পরে বিদেশ সফরে যান। তার অনুপস্থিতিতে চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করাও সম্ভব হয়নি। ফলে সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠাতে না পারায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া কার্যত পুরোপুরি থেমে গেছে।  

এবিষয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ সাবেক আমলা ফিরোজ মিঞা বলেন পদোন্নতি থমকে থাকার কথা না। পদোন্নতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলবে। পদ শূন্য হবে পদোন্নতি হবে। এটা চলমান স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় থাকবে। এটার ব্যাপ্তই ঘটলে  প্রশাসনে খারাপ প্রভাব ফেলে। যে পথগুলো শূন্য থাকে সেই কাজের ব্যাঘাত ঘটে। আবার অন্যদিকে পদোন্নতি প্রত্যাশি তারা হতাশ হয়। এই হতাশা প্রশাসনে আরো খারাপ প্রভাব ফেলে। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “এসএসবির সারসংক্ষেপ প্রস্তুত। শুধু চূড়ান্ত বৈঠক ডাকলেই প্রক্রিয়া এগোবে।” এদিকে যোগ্য, পেশাদার ও সৎ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ঝুলে থাকায় প্রশাসনে অসন্তোষ, অনিশ্চয়তা ও কাজের ধীরগতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Admin / Admin

তারেক রহমানকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঢাকা -১৭ গুলশানে গণতান্ত্রিক জাগ্রত বাংলাদেশের ব্যাপক প্রচারণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ বিজিবি) কর্তৃক বিজিবি মোতায়েন

রোডম্যাপ অনুসারে হজের সকল কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে - ধর্ম উপদেষ্টা

আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিবন্ধন নিয়ে ইসি’র ‘টালবাহানা’ ও ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ প্রতিবাদে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির সংবাদ সম্মেলন

গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো একটি বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে - পরিবেশ উপদেষ্টা

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ: লাইসেন্স পেতে চালকদের ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

ওমানের শ্রমমন্ত্রীর সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা: শীঘ্রই কর্ম ভিসা চালু করা হবে

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের ইস্যু - মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

দেওদীঘিতে ইসলামিক মিশন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন - ধর্ম উপদেষ্টা

নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিজিবি’র অভিযানে ২০২৫ সালে ১,৯০৮ কোটি ২৮ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ