ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬


আলী আহসান রবি photo আলী আহসান রবি
প্রকাশিত: ৫-১-২০২৬ বিকাল ৫:৪০

গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ সংশোধন করে ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। অফলাইন ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনায় গ্রাহকসেবা, টিকেটের ন্যায্যমূলা, আকাশপথ পরিবহণ খাতে সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ যাত্রীসহ প্রবাসী কর্মীদের বিদেশ গমনে হয়রানি নিবারণকল্পে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিগত ২০২৫ সালে আগস্ট হতে অক্টোবর এই দুই মাসে কতিপয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্নসাৎ ও প্রতারণা করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ফ্লাইট এক্সপার্ট, এফইবিডি, মক্কা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল এবং সর্বশেষ ট্রাভেল বিজনেস পোর্টাল পালিয়ে যায়। এছাড়া বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক গ্রাহকদের অর্থ আত্নসাৎ, চটকদার প্রলোভনের মাধ্যমে প্রতারণা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কাছে অযৌক্তিকমূলে টিকিট বিক্রয়ের অসংখ্যা অভিযোগ সরকারের গোচরীভূত হয়েছে।

ট্রাভেল এজেন্সি সংক্রান্ত আইনের মূল উদ্দেশ্য বৈধ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি জনসাধারণ বা গ্রাহকের সুরক্ষা প্রদান তা ২০১৩ সালের আইনে দৃশ্যমান ছিলনা। বর্তমান অধ্যাদেশে প্রধানত অভীবাসী সুরক্ষাসহ গ্রাহক/আকাশপথে যাত্রী সুরক্ষা এবং টিকিটের যৌক্তিকমূল্য নির্ধারণে বিষয়ে বিভিন্ন বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের পূর্বে মন্ত্রণালয় থেকে নিম্নোক্ত কার্যকম গ্রহণ করা হয়:

গত ৩১.১২.২০২৪ তারিখে অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন,

বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে ০৫ টি সভা আয়োজন
বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর খসড়া প্রণয়ন এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ
বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারগণ মতামত প্রদানের পর পুনরায় আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা আহ্বান এবং খসড়া চূড়ান্তকরণ *আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটির

কাছে প্রেরণ;
উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে সংশোধনের সুপারিশ ব্যতীত অনুমোদন;
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ভেটিং গ্রহণ এবং গেজেট প্রকাশ;
প্রণয়নকৃত ট্রাভেল এজেন্সি অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
নতুন অধ্যাদেশে ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১ (এক) কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ অনলাইন এজেন্সিগুলোর বাজার অনেক বড়, দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বেশি এবং সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য আর্থিক প্রতারণা ও ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য এই উচ্চতর ব্যাংক গ্যারান্টি অত্যাবশ্যক। অন্যদিকে, অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমের পরিসর সীমিত হওয়ায় তাদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিশেষ করে অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভুয়া বুকিং, টিকিট কনফার্মেশন না থাকা সত্ত্বেও অর্থ আদায় এবং অননুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট ক্রয়ের কারণে ব্যাপকভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। নতুন আইন এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে এবং প্রবাসী কর্মীদের আকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের ৯ এর (অ) উপধারার (ত) অনুযায়ী টিকিটের গায়ে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর এবং টিকিটের প্রকৃত মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে ভোক্তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য এবং জবাবদিহি তথাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা ও বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষভাবে অগ্রিম অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ছোট এজেন্সিগুলোকে জিম্মি করার প্রবণতা রোধ, ভুয়া বা ফলস বুকিংয়ের মাধ্যমে আসন ব্লক করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বন্ধ করা এবং এজেন্সি-টু-এজেন্সি (B2B) লেনদেনকে স্বচ্ছ করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রত্যেক এজেন্সিকে সরাসরি এয়ালাইন্স বা নির্ধারিত সোর্স (GDS, NDC, Web Portal) হতে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। ফলে এতে টিকিট সিন্ডকেটশন প্রতিহত করার পাশাপাশি হাত বদল বন্ধ হওয়ার ফলে টিকিটের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারিত হবে। চূড়ান্ত উপকারভোগী মালিক (Ultimate Beneficial Owner) প্রকাশের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার মাধ্যমে গোপন মালিকানা ও অর্থের উৎস আড়াল করে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অধ্যাদেশে ফলস বুকিং বা বানোয়াট তথ্য দিয়ে আসন আটকে রাখাকে অপরাধ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং জিডিএসের আইডি বা পাসওয়ার্ড শেয়ার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সিন্ডিকেট কর্তৃক টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

নিবন্ধন শর্তাবলি ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কতিপয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঋণখেলাপি ব্যক্তিকে নিবন্ধন না দেওয়া, প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত না থাকার কঠোর হলফনামা, একই পরিবারের নামে একাধিক এজেন্সির প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সৎ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করা হবে।

নিবন্ধন নবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি এজেন্সিকে নিয়মিত আর্থিক বিবরণী ও কার্যক্রম প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং সন্তোষজনক হলে প্রতি ৩ বছর পর নবাঘন করা যাবে। বিলম্বের ক্ষেত্রে জরিমানা দিয়ে নবায়নের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে, যাতে ব্যবসা বন্ধ না হয়ে বরং নিয়মের আওতায় আসে।

ভুয়া বুকিং, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মিথ্যা বিজ্ঞাপন, প্রবাসী কর্মীদের টিকেটিংয়ে অনিয়ম, GDS/NDC বা এয়ারলাইন্স সিস্টেম অবৈধভাবে ব্যবহার, লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার ইত্যাদির ক্ষেত্রে সরকার নিবন্ধন সনদ স্থগিত বা বাতিলের বিষয়ে বিধান সংযোজন করেছে। এ কঠোরতার উদ্দেশ্য কোনো সৎ ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা নয়, বরং বাজারকে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতারণামুক্ত রাখা।

টিকিট ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বড় বড় এজেন্সিগুলো ছোট এজেন্সিগুলোকে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকৃষ্ট করে ক্যাশব্যাকের প্রলোভন দেখিয়ে অগ্রীম অর্থ আদায় করতো যা প্রকারান্তরে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রমের শামিল। এই অপরাধ রোধকল্পে নতুন অধ্যাদেশে অগ্রীমকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং যে কোনভাবে অগ্রিম অর্থ আদায়কে দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের টিকিটিং বিষয়ে বিশেষ সুরক্ষা বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উৎস ও গন্তব্য দেশ ব্যতীত তৃতীয় দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয়, গ্রুপ বুকিংয়ে যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন, কনসলিডেটেড পেমেন্টের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং টিকিটে এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর ও প্রকৃত মূল্য উল্লেখ না করা এসব বিষয়কে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে, যাতে প্রবাসী কর্মীরা প্রতারণার শিকার না হন এবং সহজেই দায়ী এজেন্সি শনাক্ত করা যায়।

শাস্তি ও জরিমানার বিধান কঠোর করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদন্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান করা হয়েছে। গুরুতর অপরাধ ও প্রতারণার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশে নিবন্ধন সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করাসহ জনস্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির দেশত্যাগ রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে পরামর্শক্রমে সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে, ভোক্তা ও প্রবাসী কর্মীদের আস্থা বাড়বে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা আরও নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। সরকারের লক্ষ্য কোনো ব্যবসা বন্ধ করা নয়; বরং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভ্রমণ ও পর্যটন খাত বিনির্মাণ।

Rp / Rp

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ বিজিবি) কর্তৃক বিজিবি মোতায়েন

রোডম্যাপ অনুসারে হজের সকল কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে - ধর্ম উপদেষ্টা

আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিবন্ধন নিয়ে ইসি’র ‘টালবাহানা’ ও ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ প্রতিবাদে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির সংবাদ সম্মেলন

গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো একটি বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে - পরিবেশ উপদেষ্টা

তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ: লাইসেন্স পেতে চালকদের ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

ওমানের শ্রমমন্ত্রীর সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা: শীঘ্রই কর্ম ভিসা চালু করা হবে

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের ইস্যু - মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

দেওদীঘিতে ইসলামিক মিশন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন - ধর্ম উপদেষ্টা

নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিজিবি’র অভিযানে ২০২৫ সালে ১,৯০৮ কোটি ২৮ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার