বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী - মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,
মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ,
কমান্ড্যান্ট, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ,
আমন্ত্রিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ,
ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ,
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং
আজকের এই গৌরবোজ্জ্বল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সমাপনী কুচকাওয়াজের অংশগ্রহণকারী ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচ এর আমার প্রিয় নবীন প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ:
আসসালামু আলাইকুম।
২। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের যাঁরা দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। স্মরণ করছি এই বাহিনীর ০২ জন বীরশ্রেষ্ঠসহ সেসকল অকুতোভয় সদস্যদেরকে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন।এছাড়াও, স্মরণ করছি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের।
৩। আজ ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে আসতে পেরে আমি অত্যন্তআনন্দিত ও গর্বিত। বিজিবি’র ঐতিহ্যবাহী এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আজকের পুরুষ ও নারী নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজ আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে।
৪। বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ বিগত ৪৪ বছর যাবৎ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্তৃক নিয়োগকৃত রিক্রুটদেরকে ‘‘সীমান্তেরঅতন্দ্র প্রহরী’’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। স্বাধীনতাত্তোর এযাবৎ অত্র প্রতিষ্ঠান ৭২টি রিক্রুট ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। সাধারণত প্রতি ব্যাচে বিজিটিসিএন্ডসি কর্তৃক ৭০০-১০০০ জন রিক্রুটের মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করার সক্ষমতা থাকলেও, ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩০২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০ জন এবং নারী৭৩ জন) রিক্রুটের মৌলিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ও বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক ৩০২৩ জন রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য নতুন করে প্রশিক্ষণ মাঠ তৈরি করণ, আবাসন ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ছাউনী তৈরি, বিশুদ্ধ পানি, মেডিকেল সাপোর্ট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লজিস্টিক্স, শৃঙ্খলার মান নিয়ন্ত্রণ, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ সহায়ক সামগ্রী, বিজিবি’র বিভিন্ন ইউনিট হতে দক্ষ প্রশিক্ষক ও প্রশাসনিক সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের জন্য সার্বিকভাবে উপযুক্ত করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল। তোমাদের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করতে চাই যে, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের কোন বাহিনীর প্রশিক্ষণ সেন্টারে এক সাথে ৩০০০ রিক্রুট প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার ইতিহাস নেই, যা বিজিটিসিএন্ডসি রিক্রুটদেরকে প্রশিক্ষিত সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
৫। সুধীমন্ডলী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলের অবদানকে আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। ‘‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’’ হিসেবে সুপরিচিত এ বাহিনী বাংলাদেশের ৪৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সাথে পালন করে আসছে।
৬। প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, দৃঢ় মনোবল, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তোমাদের উপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পালন করবে। মনে রাখবা, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে, কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। নবীন সৈনিক হিসেবে তোমাদেরকে এই সকল পেশাগত ও চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে।
৭। সহকর্মীবৃন্দ । আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮,৯৭,১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সুপরিকল্পিতভাবে সমন্বিতরুপে তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।এ বাহিনী থেকেমোট ৩৭, ৪৫৩জন সদস্য ৬১ টি উপজেলায় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন, যা সামগ্রিক নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে মর্মে আমার বিশ্বাস । আপনাদেরকে যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত আচরণ ও কর্মকাণ্ড, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে-তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার জন্য আমি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করছি। দেশের ভবিষ্যত কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে।
৮। সহকর্মীবৃন্দ, আজ তোমরা যে তেজদীপ্ত কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেছ তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল তোমাদের কঠোর প্রশিক্ষণ, নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও অদম্য আগ্রহের জন্য। তোমরা যখন সীমান্তে নিয়োজিত থাকবে তখন তোমাদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার উপরই নির্ভর করবে এ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও গৌরব। দেশ মাতৃকা রক্ষায় তোমরা প্রয়োজনে জীবন দেবে তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটি হাতছাড়া হতে দিবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তোমরাই হবে আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক।
৯। প্রিয় নবীন নারী সৈনিকবৃন্দ, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান ভূমিকা রেখে চলেছে। মনে রেখো, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মহীয়সী নারীদের অংশগ্রহণ, অবদান ও আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়। আজ নারীরা বিভিন্ন অঙ্গনে যথাযথ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আজ তোমরা দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃপ্ত শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা বিজিবির সার্বিক কর্মকান্ড পরিচালনায় আরো গতিশীল ভূমিকা রাখাসহ বাহিনীর সুনাম-সুখ্যাতি বৃদ্ধিতে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তোমরাও অন্যান্য বাহিনীর নারী সৈনিকদের মতো কর্মক্ষেত্রে তোমাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণে সমভাবে সার্থক হবে বলে আমার বিশ্বাস।
১০। সহকর্মীবৃন্দ। আমি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলতে চাই—দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না; এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো বিজিবিসদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙ্গে না—সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। বিজিবি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়—এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী।
১১। আপনাদের কেউ যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হন। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়; সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, মজলুমের পক্ষে কাজ করা, দায়িত্ব পালনে ন্যায়ানুগ পন্থা অবলম্বন করা এবং নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখা। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
১২। সুধীমন্ডলি, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের প্রত্যেক সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই নান্দনিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান। আমি ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যকে এই মহৎ কাজের সফল পরিসমাপ্তির জন্য তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রিয় নবীন সৈনিকবৃন্দ, তোমাদের সকলের কর্মজীবন হোক সাফল্য মন্ডিত সেই কামনা করছি। একই সাথে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনায় অক্লান্তপরিশ্রম করে সাবলীলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমি মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ; কমান্ড্যান্ট, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যবৃন্দকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
১৩। পরিশেষে আজকের এই সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নবীন সৈনিকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর অব্যাহত অগ্রযাত্রা, নবীন সৈনিকদের সর্বাঙ্গীণসাফল্য কামনা করে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
Rp / Rp
দ্রুত শুরু হবে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম ৬ লেনের কাজ -- সিলেটে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
আবদুল্লাহপুর এ্যাডগ্রেড বিআরটি প্রকল্পের অংশের জরুরি সংস্কার কাজ পর্যবেক্ষণ করলেন -- সেতু সচিব; দ্রুত কাজ শেষের তাগিদ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর বিমানবন্দর পরিদর্শন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
শ্রমমন্ত্রীর সাথে আইএলও'র কান্ট্রি ডিরেক্টরের সৌজন্য সাক্ষাৎ
পদ্মা, যমুনা ও মুক্তারপুর সেতুতে ঈদে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ঃ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশ নিতে ভিয়েনায় যাচ্ছেন
সকাল ৮টায় ডিএনসিসির কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর
আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
বাংলাদেশে, সংবিধান আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করে