সম্ভাবনা থাকলেও এগোচ্ছে না লালমনিরহাটের চা চাষ
লালমনিরহাটে চা চাষের সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জ্বল হলেও, বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার অভাবে এ খাতের প্রত্যাশিত অগ্রগতি থমকে আছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তামাকের বিকল্প লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটানো গেলে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
জানা যায়, ২০১৬ সালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু করেন ঢাকা ট্যাক্স বারের আইনজীবী ও উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন সরকার। তার উদ্যোগ সফল হওয়ার পর আদিতমারী ছাড়াও পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলার অনেক কৃষক চা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় শ্রমিক সংকট এবং কাঁচা চা পাতার মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের মুখে পড়েন। সে সময় প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার দাম ১২ থেকে ১৫ টাকায় নেমে আসে। পাশাপাশি চা সংগ্রহকারী কেন্দ্রগুলোকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে পাতা বিক্রি করতে হওয়ায় অনেকেই বাগান গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা প্রায় ৩৮ টাকায় বিক্রি হওয়ায় আবারও চা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।
চাষিদের দাবি, আলু, ধান, ভুট্টা ও তামাক চাষে বারবার লোকসানের তুলনায় চা চাষ এখন তাদের জন্য লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তাদের ভাষ্য, চারা রোপণের পর বছরে সাত দফা পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি দফার পর সময়মতো সার ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
চা চাষিদের মতে, এক বিঘা জমিতে প্রতি দফায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও পটাশসহ বিভিন্ন ধরনের সার প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া ব্লাইটনাশক, পরিচর্যা, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি চা পাতার উৎপাদন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১১ থেকে ১৩ টাকা। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে চাষিরা উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হন।
আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের চা চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে চা চাষ করে বর্তমানে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই চা চাষ শুরু করেছেন। তবে পর্যাপ্ত সার না পাওয়া, মানসম্মত চারার সংকট এবং চা বোর্ডের কার্যকর সহায়তার অভাবে অনেকেই নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রতিবার পাতা সংগ্রহের পর উৎপাদন ধরে রাখতে পর্যাপ্ত সারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু রেশনিং ব্যবস্থায় অন্যান্য ফসলের চাষিরা সার পেলেও চা চাষিরা চাহিদা অনুযায়ী সার পান না। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বাজার থেকে সার কিনতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন সরকার বর্তমানে ৩৬ বিঘা জমিতে চা চাষ করছেন। তিনি বলেন, শুরুতে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্পের আওতায় চারা, স্প্রে মেশিন, সেচের জন্য স্যালো মেশিন, পাতা সংগ্রহ ও কাটিং মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত তিন বছর ধরে নতুন কোনো প্রকল্প না থাকায় এসব সহায়তা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চা শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সুবিধা চাষিরা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লালমনিরহাট চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমীর হোসেন বলেন, প্রকল্প চলাকালে চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় বর্তমানে কোনো সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের কারণেও মাঠপর্যায়ে পরামর্শ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে থাকায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন প্রকল্প চালু এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে জেলায় চা চাষ আরও দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, নতুন প্রকল্প চালু করা এবং চা বোর্ডের কার্যকর সহায়তা অব্যাহত থাকলে তামাকের বিকল্প হিসেবে চা চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হবে।
Rp / Rp
মানিকগঞ্জে সোহান হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড
আধ্যাত্মিক বাউল গানে মুখরিত হলো বরগুনার বেতবুনিয়ার গ্রামীণ পরিবেশ, বাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো সঙ্গীতানুষ্ঠান
সম্ভাবনা থাকলেও এগোচ্ছে না লালমনিরহাটের চা চাষ
মন্ত্রীর পরিদর্শন: ক্লিনিক সিলগালার পর, এবার মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পরদিন মোড়েলগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্লিনিক সিলগালা
বাগেরহাটে ‘ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম’ গঠন
বাগেরহাটে আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৪
মুঘল স্থাপত্য, ইসলামি ঐতিহ্য ও উত্তরবঙ্গের গৌরবের এক অনন্য নিদর্শন: নিদাড়িয়া মসজিদ
ফেনী সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি ও চকলেট সহ ৬৮ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
মহাদেবপুরে বীজ, কীটনাশক ও খুচরা সার বিক্রেতা সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত
ফুলবাড়ীতে বিজিবি’র উদ্যোগে ইলেক্ট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ উদ্বোধন
নিজেই প্রশিক্ষকের ভূমিকায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ: মাঠ প্রশাসনের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এর তৎপরতায় শ্রীপুর সীমান্তে ০৭ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা প্রতিহত
Link Copied