নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীতা নিয়ে দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে পৃথক পৃথক স্থানে দফায় দফায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলো, মাহমুদুল হাসান শাহাজাদা (৩৮), কাউছার হোসেন (২৬), আবিদুর রহমান আরাফাত (২১), সাহাব উদ্দিন (৩৬), রহীম (৪২), আমিরুল আলম শাহা (৪০), আবদুর রহিম (৪৭), আলা উদ্দিন জিকু (৫০), আবদুল আউয়াল জহির (৩৫), আবদুর রহমান সাজ্জাদ (২২), মোঃ ইব্রাহিম (৪৫), জাহিদ (২৩) সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়। চোখে গুরুতর আহত আমিরুল আলম শাহা’কে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদেরকে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফেজ শাহজাহান এবং সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আবদুর রহিমের অনুসারীদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীতা নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। শুক্রবার দুপুরে বিএনপি নেতা হাফেজ শাহজানের ভাই আমিরুলের মাটির গাড়ী ও রাসেলের ডিমের গাড়ীর সংঘর্ষের ঘটনার জেরে বিবদমান এ দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনায় সালিসি বৈঠকে উভয় পক্ষ পুনরায় বাকবিতন্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে তা দফায় দফায় সংঘর্ষের রুপ নেয়। পৃথক পৃথক এসংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি জানান, সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আবদুর রহিম নিজকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলামের সমর্থিত প্রার্থী বলে পরিচয় ও জনসংযোগকে কেন্দ্র করে একই দলের অপর প্রতিপক্ষ মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ আবদুল হক শাহজাহানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানী সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম শনিবার দুপুরে জানান, নোয়াখালী-৫ নির্বাচনী এলাকায় কোথাও কোন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় কাউকে এখনও প্রাথীতা ঘোষণা করা হয়নি। কেউ আমার নাম ভাঙ্গিয়ে এমপির প্রার্থীর পরিচয় দেয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধ। এ ধরনের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গমূলক কর্মকান্ডে যে বা যারা জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় ভাবে প্রার্থীতা ঘোষণার সময় এখনও আসেনি। দল একক ভাবে যাকে প্রার্থী ঘোষণা করবে, সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তার পক্ষে নির্বাচন করতে হবে।
মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফেজ আবদুল হক শাহজাহান বলেন, দলের কোন পদে না থেকেও আওয়ামী পরিবারের এ প্রবাসী ব্যাক্তি (সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আবদুর রহিম) গত দেড়-দুই বছরের শান্ত ও স্থিতিশীল মুছাপুর ইউনিয়নকে অসৎ উদ্দেশ্যে বখাটেদের নিয়ে অস্থিতিশীল ও অশান্ত করার খেলায় মেতে উঠেছে। আমার বসত ঘর নির্মাণের জন্য নিজ ভোগ দখলীয় জমি থেকে মাটি নেয়ার সময় নুর আলম জিকু, আবদুর রহিম ও মুহিতসহ কয়েকজন মাটি ভর্তি গাড়ী আটক করে চাবী ও মুঠোফোন নিয়ে যায়। এসময় চালক ইমরানের কাছে চাঁদা দাবী করে তারা। ইমরান গাড়ীর মালিক আমিরুল আলমকে ফোন করার পর তিনি ঘটনাস্থলে আসলে নাম উল্লেখিতরা তার প্যান্টের পকেটে থাকা ব্যবসায়ীক প্রায় এক লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় আমিরুল বাধা দিতে গেলে তাকে লোহার রড দিয়ে চোখে আঘাত করায় সে গুরুতর আহত হয়।
সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আবদুর রহিম বলেন, আমি মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো। নির্বাচন যেন না করতে পারি এজন্যই মুছাপুরের চিহিৃত এ সন্ত্রাসী পরিবার পরিকল্পিত ভাবে আমার ওপর হামলা করেছে। এ পরিবারটি মুছাপুরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করায় লিপ্ত রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।