বর্ষা মৌসুমেও গালা বাজারে শ্রমিক বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে
সবে ভোরের আলো ফুটেছে। এখন সব মানুষ ঘুমে আছে। ভোর হওয়ার সাথে সাথেই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা বাজারে শ্রমিক কেনা বেচার উৎসব শুরু হয়। ভোর হওয়ার সাথে সাথেই দূর দূরান্ত থেকে শ্রমিক সাইকেল চালিয়ে বা হেটে এই বাজারে আসে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় শত শত শ্রমিক। অন্যদিকে এই বাজার সম্পর্কে জুলহাস মিয়া দৈনিক সমাবেশকে বলেন, গালা বাজার ২০০৫ সালে ৩৫ শতাংশ জমির উপর এখানে হাট বসানো হয়। প্রতি রবিবার গালা বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসতো। সেই হাট লাগানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রা পালা অনুষ্ঠিত হতো। এরপরও বিভিন্ন কারণে এই হাটের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি। পরে সেখানে হাট কমিটি নিয়মিত বাজার লাগানোর চিন্তাভাবনা করে। কিন্তু কিছুদিন চলার পর বিভিন্ন কারণে বাজারও বন্ধ হয়ে যায়। পরে শ্রমিকের বাজার লাগানোর কথা চিন্তা করলে তাৎক্ষণিকভাবে মাইকে ঘোষণা দেন। সেই পরামর্শে সবার আগে এগিয়ে আসেন আনোয়ার মেম্বার। পরের দিন থেকে শ্রমিকের বাজার লাগতে শুরু করেন। এভাবেই আস্তে আস্তে জমে উঠে শ্রমিক কেনা বেচার বাজার। এখন গালা বাজারে শ্রমিক কেনা বেচার বাজার এতই জনপ্রিয় হয়েছে যে অন্যান্য জেলা মানুষ এসেও সেখানে কাজ করেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে আশা শ্রমিক শামিম মিয়া বলেন,আমি গরীব অসহায় মানুষ খেটে না খেলে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হবে। তবে এখানে বাজার লাগার কারণে আমাদের চিন্তা নেই, সকালে বাজারে গেলেই কোন না কোন মালিকের বাড়িতে কাজ পাবো।
নাটোর জেলা থেকে আসা এক শ্রমিক জানান, আমরা ২০ জন শ্রমিক এই বাজারের আশেপাশেই থাকি। দুই বেলা আমাদের খাবার দেন জমির মালিক। দিন শেষে কেউ বাড়ি চলে যায়, কেউ রুম ভাড়া নিয়ে বাজারে বা বাজারের আশেপাশে থাকেন , আবার কেউ বাজারের এক পাশে মশারী টানিয়ে শুয়ে থাকে। ভোর হওয়ার সাথে সাথেই বাজারে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আমরা সবাই উপস্থিত হই। কাজের চাহিদা বেশি হলে সব শ্রম বিক্রি হয়ে যায়।
বাজারের সভাপতি মো: মেছের মেম্বার জানান, এই শ্রমিক বাজারের আশেপাশের ২০-২৫ টি এলাকার মানুষের কৃষি কাজ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে করছেন। কারণ এক সময় শ্রমিক না পাওয়ার কারণে হতাশ ছিলেন কৃষি জমির মালিক। এখন বাজারে গেলেই যেকোনো মূল্যে শ্রমিক পাওয়া যাবেই।
শ্রমিকের দৈনিক মজুরি কত জানতে চাইলে শাজাহান মিয়া জানান,আমি পাট কেলানোর কাজ বেশ অনেক দিন যাবত করতেছি আমার দৈনিক মুজুরি দেয় ৯ শত টাকা।
এ বিষয়ে মো:সিদ্দিক মোল্লা জানান, শ্রমিকের এই বাজার লাগার কারণে আমাদের কৃষি জমিতে কাজ করতে কোন সমস্যা হয় না। কৃষি আবাদের জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে বাজারে আসলেই দাম দর করে নিতে পারি শ্রমিক।
এখন বর্ষাকাল তবুও যেন শ্রমিকের কাজের অভাব নেই। এখনো শ্রমিকের বর্তমান মূল্য ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। সারাবছর চাহিদা অনুপাতে শ্রমিকের দাম বিভিন্ন ধরনের হয়। এই সময় ধান লাগানো,পাট কাটা,পাট কেলানোর কাজ বেশি করতেছে দামও ভালো পাচ্ছে। এই দামে শ্রমিকরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন, পাশাপাশি কৃষি জমির মালিকেরাও সন্তুষ্ট। কারণ ইচ্ছে করলেই শ্রমিক পাওয়া যায়।
ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড ইদ্রিস আলী জানান, শ্রমিকের বাজার লাগার কারণে গালা গ্রামসহ আশে পাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের কৃষি কাজ অনেক সহজ হয়েছে। এই শ্রমিকের বাজার হওয়াতে কৃষক কৃষিকাজে হতাশ হবে না। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই কৃষি কাজ করতে পারবে বলে জানান তিনি।
Masum / Masum
মহাদেবপুরে বিনিয়োগের ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের দাবীতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবস্থান কর্মসূচী পালন
লালমনিরহাটে বিজিবির অভিযানে ইউএসএ তৈরী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
সন্ত্রাস, চাদাবাজ ও নৈরাজ্য মুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবেঃ ব্যারিস্টার জাকির
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাগেরহাট শাখার শোক
নদী ভাঙন রোধে পাটুরিয়ায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
রেড চিটাগাং ক্যাটল জাত সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি --- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
নোয়াখালী-৫ আসনে এমপি প্রার্থীর গাড়ির সঙ্গে শিক্ষার্থীবাহী গাড়ির সংঘর্ষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বরগুনা ১ আসনের হাতপাখা মার্কার পথসভা
বাগেরহাটে স্বাস্থ্য বিষয়ক অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
দুর্নীতির পাতা ধরে টানাটানি করবো না, শিকড় ধরে তুলে ফেলবো -- ডা. শফিকুর রহমান
বাগেরহাটে ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচনী জনসভা
বাইউস্টে “Advancing Quality Assurance in Higher Education: Integration of TLA, CPD, and Academic Strategic Plan’’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত